৩ বছরের শিশু ধর্ষিত…কিন্তু কেন?

৩ বছরের শিশু ধর্ষিত…কিন্তু কেন?


0 310

অনেক সময়ই বলা হয় নারীর পোশাকই নারী নিযার্তনের জন্য দায়ী। আসলেই কি তাই? যদি তাই হবে তাহলে তিন বছরের একটি ছোট্ট নিষ্পাপ শিশুকে কেন ধর্ষণ করা হল? ওই শিশুটির তো এখনো ঠিক করে পোশাক পড়ারই বয়েস হয়নি!

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ করেছে রাসেল (১৪) নামে এক কিশোর। তাকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আটক করেছেন।

এর আগে একটি মাদ্রাসার ছাত্রী ধর্ষিত হয়েছিল যে মেয়েটির পোশাক ছিল খুবই শালীন এবং আপাদমস্তক ঢাকা।

শিশু ধর্ষণ বা পর্দানশিন নারী ধর্ষণের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। বরং এমন ঘটনা প্রায়শই ঘটছে।

যারা মনে করেন যে , নারীরা পর্দা করলেই ধর্ষণের মত সব নারী নির্যাতনগুলো বন্ধ হয়ে যাবে তাদের ভেবে দেখার সময় এসেছে আসলেই কি সমস্যা শুধু পোশাকে , নাকি আরো কোথাও গলদ রয়েছে। একটি বিষয়ে কোন দ্বিমত নেই নেই যে, পোশাক অবশ্যই শালীন ও মার্জিত হতে হবে কিন্তু শুধু পোশাক বদলালেই সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে না। উপরোক্ত ঘটনাগুলো প্রমাণ করে দেয় যে, সকল নারীরা যদি আজ থেকে পর্দা করা শুরু করে দেয় তাহলেই সমস্যার শেষ হবে না। কারণ সমস্যার মূল কারণ শুধুমাত্র বেপর্দায় চলাফেরা করা নয়, বরং নারীর প্রতি প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই এসব ঘটছে।

একটি সমাজের দৃষ্টি ভঙ্গিগুলো গড়ে উঠে ওই সমাজের মিডিয়া, নাটক, সিনেমা, বই-পুস্তক, বিজ্ঞাপন, বিলবোর্ড ও সামাজিক আচার-আচরণের সমন্বয়ে। আমাদের সমাজের এসকল জায়গা থেকে নারীদেরকে উপস্থাপন করা হয় সস্তা ভোগ্য পণ্য হিসেবে, সেক্স সিম্বল হিসেবে এবং পুরুষের মনোরঞ্জনের পাত্রী হিসেবে। এমন একটি গান, বিজ্ঞাপন, নাটক, সিনেমা পাওয়া দুষ্কর হয়ে গেছে যেখানে নারীকে ভোগ্য পণ্য হিসেবে তোলে ধরা হচ্ছে না। বিজ্ঞাপনগুলোতে দেখা যায় বিভিন্ন পণ্যের সাথে নারী দেহের তুলনা করা হচ্ছে। গান আর সিনেমাগুলোতে নারীরা অর্ধ উলঙ্গ হয়ে নৃত্য করছে। রাস্তায় বের হলে যেসকল বিলবোর্ডগুলো চোখে পড়ে সেখানেও নারীদেহের অশালীন উপস্থিতি। এ ছাড়া প্রযুক্তির উৎকর্ষতার ফলে ইন্টারনেট এখন সবার হাতে হাতে। ইন্টারনেটে রয়েছে অসংখ্য পর্নোসাইট। যুবক বয়েসি ছেলেরা ইন্টারনেটে অহরহ পর্নো সাইটগুলোতে ভিজিট করছে। যা একটি পুরুষের মানসিকতাকে নষ্ট করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

এসবের ফলে সমাজে নারীকে সম্মানের চোখে না দেখে বরং দেখা হচ্ছে পুরুষের মনোরঞ্জনের পাত্রী হিসেবে। শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত কিংবা অশিক্ষিত সব ধরণের এবং সব বয়সের নারীরাই নানা জায়গায় নানাভাবে তাই যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী যেমন যৌন হয়রানীর শিকার হচ্ছে তেমনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন ছাত্রীও এ থেকে রেহাই পাচ্ছে না। একইভাবে গৃহবধূ আর কর্মজীবী সকল ধরণের নারীরাই নির্যাতিত হচ্ছে।

মিডিয়া, নাটক, সিনেমা, বই-পুস্তক, বিজ্ঞাপন, বিলবোর্ড ও সামাজিক আচার-আচরণ প্রভৃতি সকল জায়গা থেকে নারীকে সম্মানের পাত্রী হিসেবে তুলে ধরতে হবে। আর নারী দেহ নিয়ে ব্যবসা করা বন্ধ হওয়াটাও জরুরী। ‘আরসির মজা কত তোমার মত যখন যেমন চাই’ অথবা ‘ত্বক তো নয় যেন মাখন’ এমন দৃষ্টিভঙ্গির প্রচার বন্ধ করতে হবে। ইন্টারনেট থেকে কেউ চাইলেও যেন কোন খারাপ সাইটে ভিজিট করতে না পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। আর নারীদেরকে মার্জিত পোশাক যেমন পড়তে হবে তেমনি পুরুষদেরকেও তাদের দৃষ্টিকে হেফাজত করতে হবে। এই প্রতিটি কাজে কর্তৃপক্ষের ভূমিকাই মূখ্য। কর্তৃপক্ষ তথা প্রশাসন যদি চায় তাহলে আদেশ জারি করে সমাজের মিডিয়া, নাটক, সিনেমা, বই-পুস্তক, বিজ্ঞাপন, বিলবোর্ড, ইন্টারনেট পলিসি সবই বদলে দিতে পারে যা কোন সাধারণ নাগরিক কখনোই পারবে না। তবে সাধারণ নাগরিক এসবরে পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে ভূমিকা পালন করতে পারে।