সাহসী মুসলিমাহদের গল্প

সাহসী মুসলিমাহদের গল্প [১]


0 372
কাল্পনিক ছবি

বাংলা গ্যাজেট ডেস্কঃ আচ্ছা বলুন তো- এই সমাজে সাহসী নারী বলতে কাদেরকে বুঝানো হয়? কী কী গুণ থাকলে একজন নারীকে সাহসী নারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়? কিছুদিন আগে একটি খবরের কাগজের শিরোনাম দেখে চোখ আটকে গেল। সেখানে একজন নায়িকাকে সাহসী অভিনয় নিয়ে রিপোর্ট করা হয়েছে। কেন তাকে সাহসী বলা হয়েছে জানেন? কারণ তিনি ন্যুড একটি দৃশ্যে অভিনয় করেছেন!

আজ এখানে একজন সাহসী মুসলিমাহর কথা তুলে ধরবো যিনি সত্যিকার অর্থেই একজন সাহসী নারী। এ সমাজের মুসলিম নারীদের অনেক কিছুই শেখার আছে তার কাছ থেকে। এই বোনটির নাম সায়মা(ছদ্মনাম)। খুব ধনাঢ্য পরিবারে জন্ম। ছোটবেলা থেকেই বেশ আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে বড় হয়েছেন। পড়াশুনা করেছেন প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে। টাইট জিন্স আর টি-শার্টই ছিল সায়মার নিত্যদিরে পোশাক। বন্ধু আর বান্ধবীর কোন অভাব ছিল না তার। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজিলাতুন্নেছা হলে কেঁটেছে পাঁচটি বছর। সেই হলের ছাদে বসে রাতের পর রাত ফোনে কথা বলেছেন কত ছেলে বন্ধুদের সাথে। আর জীবনকে উপভোগ করতে বছরে কয়েকটা ট্যুর তো ছিল অবধারিত।

কিন্তু সেই সায়মার হঠাৎ কী হলো? সায়মাকে দেখে ক্লাসের সবাই অবাক। আপাদমস্তক বোরখায় ঢাকা। মুখে মিষ্টি হাসি। দৃষ্টিজুরে এক দৃঢ়তার বহিঃপ্রকাশ। একজন জিজ্ঞেস করলোঃ “ এই গরমে বোরখা পড়ে এসেছিস-তোর কি মাথা খারাপ হলো নাকি? ”

উত্তর শুনে সবার মুখে কুলুপ এটে গেল। যে সায়মা জান্নাত-জাহান্নামকে কখনোই পরোয়া করতো না সে কিনা বলছে, “ জাহান্নামের আগুন তো এর চেয়ে অনেক বেশি উত্তপ্ত। আর মাথা এতদিন নষ্ট ছিল॥ তবে মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ কৃপায়ে এবার মাথা ঠিক হয়েছে। ভাল ও মন্দ এবং সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য তার (আল্লাহর)  দয়ায় এতদিনে উপলব্ধি করতে পেরেছি, আলহামদুলিল্লাহ। তোদেরও উচিত মাথার চিকিৎসা করানো।”

ক্লাসমেটদের সাথে কথা শেষ হতে না হতেই এক শিক্ষকের সাথে দেখা। শিক্ষক সায়মাকে খুব স্নেহ করেন। কিন্তু সায়মার এই পোশাক দেখে তিনি রীতিমত অবাক এবং হতাশ!( এই সমাজে যা হয় আরকি)। শিক্ষক বলেই বসলেনঃ “ সায়মা, তোমার পিতা-মাতা কি খুব কনজারবেটিভ নাকি-তারা কি তোমাকে এমন মধ্যযুগীয় পোশাক পড়তে বাধ্য করেছে? তোমাকে এমন পোশাকে দেখবো একদম আশা করিনি।”

শিক্ষকের কথায় সায়মা সত্যিই খুব কষ্ট পেল। কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে সায়মা বললঃ “ স্যার, একটা বিষয় বুঝলাম না। এই বিশ্ববিদ্যায়ের অনেক মেয়েকে দেখেছি যারা প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়ার সময় বেশ শালিন পোশাক পড়ে আসত। অথচ কয়েক ‍মাস পরেই তারা মাথায় উড়ণা পড়া বাদ দিয়ে জিন্স-ফতোয়া পড়া শুরু করেছে আর আপনারা তাদেরকে খুব বাহবা দিয়েছেন। আর আমাকে ব্যাকডেটেড বলছেন! আল্লাহ প্রদত্ত পোশাকের উপর আপনাদের বিদ্বেষের কারণটা কি? বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনার জন্য যে মেধা দরকার তাতো আর বোরখায় ঢাকা পড়েনি। তাহলে সমস্যা কোথায়?

সায়মার মুখে এমন কথা শুনে স্যারের চোখ একদম বড় বড় আর রক্তিম বর্ণ হয়ে গেছে। স্যার ক্ষেপে গিয় বললেনঃ “তুমি তো উগ্রবাদী হয়ে গেছ। নিজেকে সামলাও নইলে ফল ভাল হবে না।”

সায়মার এই আকস্মিক পরিবর্তন তার পরিবার,বন্ধু-বান্ধব এবং অন্যান্য পরিচিত জনেরা কেউই সহজভাবে মেনে নিতে পারছিলেন না। কিন্তু তাতে কি আসে যায় – এক আল্লাহর দাসত্ব করতেই তো পৃথিবীতে জন্ম। তাই আল্লাহর উপর ভরসা করে আল্লাহর দেখানো পথেই হাটা শুরু করলো সায়মা। যদিও চলার পথে আগের অনেক আপনজনই তাকে ত্যাগ করলো। দুনিয়ার বহু হাতছানীকে সায়মা তুচ্ছজ্ঞান করলো অবলিলায়। কারণ সায়মা সর্বদা মনে মনে ভাবতো মহান আল্লাহর সেই বাণীর কথা-যেখানে আল্লাহ বলছেনঃ “মানুষ কি মনে করে যে, তারা একথা বলেই অব্যাহতি পেয়ে যাবে যে, আমরা ঈমান এনেছি এবং তাদেরকে পরীক্ষা করা হবে না? আমি তাদেরকেও পরীক্ষা করেছি, যারা তাদের পূর্বে ছিল। আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন যারা ঈমানের দাবিতে সত্যবাদী এবং নিশ্চয়ই জেনে নেবেন মিথ্যুকদেরকে।” [সূরা আনকাবুতঃ ২-৩]

 

 

 

 

NO COMMENTS

Leave a Reply