মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর

মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর


0 314

ক্বদর শব্দের অর্থ মাহাত্ম বা সম্মান। এই রজনীতে মহান আল্লাহ তায়ালা সমগ্র মানবজাতির জন্য হেদায়াত স্বরূপ নাজিল করেন মহাগ্রন্থ আল-কোরআন। কোরআন নাজিলের কারণেই আল্লাহ এই রাতটিকে এতটা সম্মানিত করেছেন। আর একই কারণে বারটি মাসের মধ্যে ফযিলতপূর্ণ মাস হল রমযান মাস।

লাইলাতুল কদর বা ভাগ্য রজনীতে ইবাদত করার মহান ফজিলতের কথা বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “ নিশ্চয়ই আমি এটি নাযিল করেছি লাইলাতুল কদরে। তোমাকে কিসে জানাবে লাইলাতুল কদর কি? লাইলাতুল কদর হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। সে রাতে ফেরেশতারা ও রূহ (জিবরাঈল) তাঁদের রবের অনুমতিক্রমে সকল সিদ্ধান্ত নিয়ে অবতরণ করেন। শান্তিময় সেই রাত, ফজরের সূচনা পর্যন্ত।” [সূরা আল কদর: ১-৫]

মহান আল্লাহ আরও বলেন, অবশ্যই আমি কুরআন নাযিল করেছি একটি বরকতপূর্ণ রাতে।” (সুরা দুখান: ৩)

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন: “যে ব্যক্তি ঈমান সহকারে এবং প্রতিদানের আশায় লাইলাতুল ক্দরে নামায পড়বে তার অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।”[সহীহ বুখারী (১৯০১) ও মুসলিম (৭৬০)]

হাদিসে “ঈমান সহকারে” কথাটির অর্থ হচ্ছে- এই রাতের মর্যাদা ও বিশেষ আমল শরিয়তসম্মত হওয়ার উপর বিশ্বাস স্থাপন করা। আর “প্রতিদানের আশায়” কথাটির অর্থ হচ্ছে- নিয়্যতকে আল্লাহ তাআলার জন্য একনিষ্ঠ করা।

লাইলাতুল ক্বদরের হদিস পাবেন কিভাবে:

অনেকেই শুধু ২৭ রমজানের রাতকেই লাইলাতুল কদরের রাত বলে মনে করে থাকেন।কিন্তু এই ধারণাটি সঠিক নয়। কেননা রাসুল (সা.) আমাদেরকে নির্দিষ্ট করে বলেন নি যে ২৭ এ রমজানের রাতই লাইলাতুল কদরের রাত। বরং তিনি রমজানের শেষ দশদিনের বেজুড় রাতে মহিমান্মিত লাইলাতুল কদরের অনুসন্ধান করতে বলেছেন।

আয়েশা (রাঃ) বলেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা শবে ক্বদর তালাশ কর। রমযানের শেষ দশকের বে-জোড় রাত্রিতে। ”(বুখারী)

আয়িশা (রাঃ) আরো বলেন, “তিনি বলেন, যখন রমযানের শেষ দশক আসত তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর লুঙ্গি কষে নিতেন (বেশী বেশী ইবাদতের প্রস্তুতি নিতেন) এবং রাত্র জেগে থাকতেন ও পরিবার-পরিজনকে জাগিয়ে দিতেন।” (সহিহ বুখারী)

তবে লাইলাতুল কদরকে চেনার জন্য কিছু লক্ষণ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। যেমন:

  • রাতটি গভীর অন্ধকারে ছেয়ে যাবে না।
  • নাতিশীতোষ্ণ হবে। অর্থাৎ গরম বা শীতের তীব্রতা থাকবে না।
  • মৃদুমন্দ বাতাস প্রবাহিত হতে থাকবে।
  • সে রাতে ইবাদত করে মানুষ অপেক্ষাকৃত অধিক তৃপ্তিবোধ করবে।
  • কোন ঈমানদার ব্যক্তিকে আল্লাহ স্বপ্নে হয়তো তা জানিয়েও দিতে পারেন।
  • ঐ রাতে বৃষ্টি বর্ষণ হতে পারে।
  • হালকা আলোকরশ্মিসহ সূর্যোদয় হবে। যা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মত।

(সহীহ ইবনু খুযাইমাহ, বুখারী ও মুসলিম)

কদরের রাতগুলোতে একজন মুসলিমের করণীয়:

বান্দাহ বিভিন্ন নফল ইবাদতের মাধ্যমে বিনিদ্র রজনী কাটাবে।

  • সাধারণ নিয়মে দুই রাকাত করে যত খুশি নামাজ আদায় করা।
  • নিম্নের দু’আ বিশেষভাবে পাঠ করবেন, “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউয়ুন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নী “
  • হাদিসে যে দোয়া ও জিকিরের অধিক ফজিলতের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো থেকে কয়েকটি নির্বাচিত করে অর্থ বুঝে বারবার পড়া যেতে পারেন।
  • ইস্তেগফার ও দরুদ আল্লাহর কাছে খুবই প্রিয়। কমপক্ষে ১০০ বার ইস্তেগফার ও ১০০ বার দরুদ পড়া যেতে পারে।
  • কুরআন মাজীদ পাঠ করা।

নিঃসন্দেহে কদরের রাজ বরকতপূর্ণ। যে ব্যক্তি অবহেলায় বা অলসতায় এই রাতটির অবমূল্যায়ন করল, এর যথার্থ গুরুত্বারোপ করল না, সে সমূহকল্যাণ থেকে নিজকে বিরত রাখল। প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির উচিত যে, এই রাতের যথাযথভাবে হক আদায় করে মহান আল্লাহর পক্ষথেকে কল্যাণ, ফযীলত, বরকত ও আশাতীত সওয়াব লাভে ধন্য হওয়া।

 

NO COMMENTS

Leave a Reply