বিড়ালের কামড়ের রোগীকে ১০ টেস্ট!

বিড়ালের কামড়ের রোগীকে ১০ টেস্ট!

বাংলা গ্যাজেট ডেস্কঃ বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত এক রোগীকে যথাযথ চিকিৎসা না দিয়ে ১০টি টেস্টসহ অপ্রয়োজনীয় ইনজেকশন পুশ করে হাসপাতালে ভর্তি করে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শরীয়তপুর সদর সরকারি হাসপাতালের ডা. সুমন কুমার পোদ্দারের বিরুদ্ধে।

রোগীর সাথে প্রতারণার অভিযোগ ও জড়িত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছের শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. মসিউর রহমান।

রোগীর স্বজন ও শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর পৌরসভার ধানুকা এলাকার দিন মজুর শাহজাহান সরদারের স্ত্রী রেহানা বেগমকে বিড়ালে কামড় দেয়। চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. সুমন কুমার পোদ্দার রোগীকে হৃদরোগের পরীক্ষা, হৃদযন্ত্রে কোলেস্টরেল পরীক্ষা, লিভার সমস্যার পরীক্ষা, ডায়বেটিস পরীক্ষা ও রক্তের রুটিন চেকাপের জন্য সিবিসি, আরবিএস, ইসিজি, লিপিট প্রোফাইল, এসজিপিটি ও সিরাম ক্রিটিনান নামের ছয়টি পরীক্ষা দিয়ে দালালের মাধ্যমে তার পছন্দের শরীয়তপুর ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠান। হাসপাতালে ভর্তির পর রোগীকে বিড়ালে কামড়ের ভ্যাকসিন না দিয়ে একটি ভিটামিন স্যালাইনসহ অন্যান্য রোগের পাঁচটি দামি ইনজেকশন যেমন- ক্লিনোসল, টপসেফ, এক্সন, ডিসোপেন, সেরিটন লিখে দেন ভর্তি ফরমে। এতে হয়রানি ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন রোগী। এ ঘটনার বিচার চেয়ে ১১ জুন রোগীর স্বামী শাজাহান সরদার জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

প্রতারিত রোগী রেহানা আক্তার বলেন, ‘গত শুক্রবার (১০ জুন) বেলা ১১টার দিকে আমার হাতে বিড়াল কামড় দেয়। আমি সাথে সাথে আমার স্বামীকে নিয়ে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে যাই। সেখানে ডাক্তার সুমন পোদ্দারকে দেখানোর পর সে আমাকে চিকিৎসা না দিয়ে কয়েক হাজার টাকার পরীক্ষা দেয় আর হাসপাতালে ভর্তি করে স্যালাইন ও অনেকগুলো সুই দেয়। আমি বার বার বিড়ালের কামড়ের ওষুধ দিতে বললেও তিনি আমাকে জোর করে টেস্ট দেন।’

রোগীর স্বামী শাহজাহান সরদার বলেন, ‘আমার স্ত্রীকে বিড়ালের কামড়ের ভ্যাকসিন দিতে অনুরোধ করলে ডা. সুমন পোদ্দার পরীক্ষা ছাড়া কোনো চিকিৎসা দেওয়া হবে নয় বলে জানিয়ে দেন। নিরুপায় হয়ে ডাক্তারের পছন্দের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে ৩ হাজার ২শ টাকার পরীক্ষা করাই। পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে আসলে ভর্তি ফরমে ৫টি ইনজেকশন লিখে হাসপাতালে ভর্তি করেন ডাক্তার সুমন পোদ্দার। ৫টি ইনজেকশনই বাইরে থেকে কিনে আনতে হয় এবং ওই দিনই ৫টি ইনজেকশন রোগীর শরীরে পুশ করা হয়। ভর্তির পরের দিন দেয়া হয় বিড়ালে কামড়ের ভ্যাকসিন। এখানে আমরা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও হয়রানির শিকার হয়েছি। ’

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনার বিচার চেয়ে ১১ জুন রোগীর স্বামী শাজাহান সরদার জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অভিযোগটি সিভিল সার্জনের কাছে পাঠান জেলা প্রশাসক।

সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে ১২ জুন জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মুনীর আহমদ খানকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটিকে পরবর্তী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু সাতদিন পর রোববার সকালে  প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।

ডাক্তার সুমন কুমার পোদ্দার বলেন, আমার কাছে রোগী যখন চিকিৎসা নিতে আসে তখন সে অচেতন অবস্থায় ছিল। সে আমাকে বিড়ালের কামড়ের কথা বলেননি। তার শরীর দুর্বল থাকায় তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়।

শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. মসিউর রহমান বলেন, চিকিৎসক সুমন পোদ্দার যে সকল প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা ও ব্যবস্থাপত্র দিয়েছেন তা বিড়ালের কামড়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। রোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের দেওয়া প্রতিবেদনটি এখনো পর্যালোচনা করেননি বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. মসিউর রহমান। তিনি জানান, প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কার্যকর ব্যবস্থা নেব।

NO COMMENTS

Leave a Reply