বিএনপি-আওয়ামী লীগ: একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ

বিএনপি-আওয়ামী লীগ: একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ


0 488

উম্মে সারাহ্

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অরাজক অবস্থা এদেশের জনগণের জীবনকে ফেলে দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তায়। সর্বস্তরের মানুষ আজ দিশেহারা। সবাই ব্যাকুল হয়ে আছে এ্ই অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য। কিন্তু কে বা কোন রাজনৈতিক দলকে তারা এক্ষেত্রে ভরসা করবে? ভরসার জায়গা তো সকল দলই নষ্ট করে ফেলেছে। হরতাল-অবরোধের নামে বিএনপির নের্তৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে হত্যার আন্দোলন মানুষ এখন প্রত্যক্ষ করছে। শুধু এখনই কেন যখন তারা ক্ষমতায় ছিল তখনো তারা কত দেশদ্রোহী কাজ করেছে , গুম, হত্যা করেছে তা সচেতন মানুষ ভুলেনি। আর তাদের মত একই কাজ করে চলেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ক্রসফায়ার, গুম, হত্যা, বিদেশিদের স্বার্থে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়া সবই জনগণ প্রত্যক্ষ করছে।

ফিরে দেখা ১৯৯৬ থেকে ২০০৫ (আওয়ামী কাল) এই শিরোনামে বাংলাদেশের জাতীয় পার্টি(বিজেপি)’র চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ফেসবুকে একটি স্ট্যাস্টাস দিয়েছেন যেখানে ১৯৯৬ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের এমন অগণিত কর্মকাণ্ড তিনি তুলে ধরেছেন যাতে প্রমাণ হয় শুধু বিএনপি একা নয় আওয়ামী লীগও ঠিক একই কাজ করেছে অতীতে। তার স্ট্যাটাসটি বলে দিচ্ছে বিএনপি আর আওয়ামী লীগ এরা একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ বৈ কিছু নয়।

১৯৭১ সালে লাখো মানুষ রক্ত দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীন করেছিল বহু আশা নিয়ে। তারা ভেবেছিলেন, দেশ স্বাধীন হলেই বুঝি সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। সমস্ত অত্যাচার আর বৈষম্য থেকে তারা রেহাই পাবে। কিন্তু তাদের সেই আশা শুধু হতাশাই বয়ে আনল। স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরে এসে জনগণ বুঝতে পেরেছে যে, মূলত স্বাধীনতার ফলে অত্যাচার বদলায়নি বরং বদলেছে অত্যাচারীর চেহারা। আর অত্যাচার কোন অংশেই হ্রাস পায়নি বরং শতগুণ বেড়েছে।

পাকিস্তানী শাসন বা তারও আগের বৃটিশ শাসন এবং বর্তমান স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীন নেতাদের শাসন কোন সময়ই এদেশের মানুষ সুশাসন পায়নি। পায়নি তাদের ন্যায্য অধিকার। হয়ত মনে হচ্ছে অত্যাচার নির্যাতন এখন বেশি প্রকট। আসলে সব সময়ই অত্যাচার নির্যাতন প্রকট ছিল। হয়ত তার বাহ্যিক রূপটা এখন বদলেছে। এমতাবস্থায় সাধারণ জণগণ ঠিক কি করবে তা তারা বুঝতে পারছে না। অন্যদিকে তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা সমাধানের নামে জনগণকে শুধু বিভ্রান্তই করছে। কেননা সেই অতীত কাল থেকে আজ অবধি যেই কারণে দেশের এই অবস্থা তা তারা তুলে ধরছেন না। বরং তারা বারবার সমস্যার প্রকৃত কারণকে আড়াল করেছেন।

আজকে যারা ক্ষমতায় আসীন অথবা যারা ক্ষমতার জন্য লড়াই করছে তারা সবাই ভুলে গেছেন যে তাদের সকল কর্মকাণ্ডের জন্য আল্লাহ তায়ালার নিকট তাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে। তারা ভুলে গেছেন যে সৃষ্টিকর্তা (আল্লাহ তায়ালা) আমাদেরকে সৃষ্টি করেই ছেড়ে দেননি। বরং ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় জীবন কীভাবে পরিচালনা করতে হবে তার সমস্ত দিক নির্দেশনা তিনি (আল্লাহ পাক) পবিত্র কোরান ও তার প্রিয় হাবীব মুহম্মদ(সা.) এর মাধ্যমে আমাদেরকে বাতলে দিয়েছন। রাসুল (সা.) নামাজ-রোযার মত রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতিও প্র্যাকটিক্যালি দেখিয়ে দিয়েছেন। কিছু দিন আগে প্রধানমন্ত্রী যে ‘মদিন সনদ’ এর কথা বলে আলোচনায় এসেছিলেন সেই মদিনা সনদ ছিল রাসুল (সা.) কর্তৃক মদিনাতে প্রতিষ্ঠিত খিলাফাহ বা ইসলামী রাষ্ট্রের সংবিধান। যেই সংবিধান দিয়ে দেশ চালিয়ে ইসলামী রাষ্ট্র বিশ্বের দুই তৃতীয়াংশ ভূমিতে তাদের সুশাসন ছড়িয়ে দিয়েছিল। প্রতিষ্ঠিত করেছিল প্রকৃত ন্যায় বিচার, ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ আর মানবতা। আর সেই সংবিধানে সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক ছিলেন আল্লাহ তায়ালা কোন মানুষ এমনকি রাসুল(সা.)ও নন। কিন্তু আজকে মনুষ্য সৃষ্ট সংবিধানে আল্লাহর পরিবর্তে মানুষকে সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক করে দেওয়া হয়েছে। তাই তারা নিজের ইচ্ছা মত আইন কানুন বানাচ্ছে যা দেশকে ও বিশ্বকে নিয়ে যাচ্ছে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

[লেখক সাংবাদিক়

NO COMMENTS

Leave a Reply