প্যারিস হামলা: নেপথ্যে কারা?

প্যারিস হামলা: নেপথ্যে কারা?


0 208

প্যারিসে শুক্রবার রাতের ভয়াবহ হামলায় কমপক্ষে ১৩০ জন মানুষ প্রাণ হারায়। এই ঘটনার জন্য পাশ্চাত্যের মিডিয়া পরোক্ষভাবে বিশ্বজুড়ে থাকা ১৬০ কোটি মুসলমানকেই দায়ী করছে। হামলার পরপরই ফ্রান্সের রাষ্ট্রপ্রধান ভাষণ দেন। সেখানে তিনিও মুসলমানদের দিকে আঙুল তুলেন।

এরপর হামলাটির জন্য ইরাক ও সিরিয়াভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন আইএস দায় স্বীকার করে বলে খবর প্রকাশ হয়। আরো খবর প্রকাশ করা হয় যে তদন্তকারীরা একটি মরদেহের পাশে খুঁজে পেয়েছেন সিরীয় পাসপোর্ট। ওই মৃতদেহটি পাওয়া গেছে স্টেডিয়ামের পাশে। যেখানে দুই আত্মঘাতী বোমারু বিস্ফোরকের সাহ‌য্যে নিজেদের উড়িয়ে দেয়!

বিশ্বজোড়ে সংগঠিত আত্মঘাতি বোমা হামলা ও অন্যান্য সন্ত্রাসী হামলাগুলোর ফলাফল পশ্চিমারা সর্বদা এভাবেই সাজিয়ে আসছে। অনেকটা বাংলাদেশের একটি বিশেষ বাহিনী কর্তক সাজানো ‘ক্রসফায়ার‘ নাটকের মত।  ঘটনার ভিকটিম হয়তো ভিন্ন কিন্ত ফলাফল একই। সব দোষ নন্দঘোষের।

প্রথমদিকে বিশ্ববাসী বিনা প্রশ্নে পশ্চিমাদের মঞ্চস্ত এসকল নাটক (যেমন টুইন টাওয়ারে বোমা হামলা) হজম করলেও এখন পরিস্থিতি অনেক বদলেছে। বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সকলেই ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে নানা প্রশ্ন উত্থাপন করছে। যে সকল প্রশ্ন কোনভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যাচ্ছে না।

বিশ্বের আর দশ জনের মত পশ্চিমাদের মধ্যেও অনেকেই কথিত প্যারিস হামলা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছে। কারণ মুসলমানদের মধ্যে কেউ যদি এ ঘটনা ঘটাতো, তবে এর মাধ্যমে মুসলমানদের কোন উপকার ঘটতো। কিন্তু দেখা যাচ্ছে এ ঘটনার মাধ্যমে ইউরোপ জুড়ে ইসলাম বিদ্বেষ, শরনার্থী বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়েছে, যা মুসলিমদের স্বার্থের বিপরীত। বরং এ ঘটনার মাধ্যমে কৌশলে মুসলমানদের দমন করতে চাইছে একটি মহল।প্যারিস হামলাকে অজুহাত করে প্যারিস হামলার ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই গভীর রাতে ঘুমন্ত শরনার্থী ক্যাম্পে আগুন দেয় ফ্রান্সের অধিবাসীরা। আগুনে পুড়িয়ে ফেলা রিফিউজি ক্যাম্পে ৬ হাজার সিরিয় শরনার্থী বাস করতো।

এদিকে ফ্রান্সের একটি টিভি চ্যানেলের বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে, ঐদিন হামলার কিছুক্ষন পূর্বেই সিআইএর ডিরেক্টর জন ব্রেননান ফ্রান্সের সিকিউরিটি চিফের সাথে সাক্ষাৎ করে। একই সাথে মোসাদের সাথে যোগাযোগের খবর মিলিছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, সম্পুর্ণ পরিকল্পিতভাবে এই হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে।  ইসলামের বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের ষড়যন্ত্রের এটি একটি নতুন নাটক বৈ কিছু নয়।

আরো একটি বিষয় নিয়ে তুমুল আলোচনা হচ্ছে। বাংলাদেশে আইএসের কথিত হামলার আগাম সতর্কবার্তা দিতে সক্ষম পশ্চিমা বিশ্ব নিজেদের দেশে আইএস এর কথিত হামলার খবর পেল না? ! আর ফ্রান্সের মত একটি হাইসিকিউরড দেশে সন্ত্রাসীরা অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রীয় অস্ত্র ক্লাশনিকোভ নিয়ে হামলা চালানোর সুযোগ পায় কি করে? জঙ্গিরা বসে বসে প্ল্যান করল আর ফ্রান্সের গোয়েন্দারা কি বসে বসে ঘোড়ার ঘাস কেঁটেছে? অথচ শার্লি এবদো পত্রিকায় হামলার পর ফ্রান্সের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হয়েছিল!

এক সিরিয়ান সন্ত্রাসীর পাসপোর্ট ঘটনাস্থলে পাওয়া গেছে এবং সন্ত্রাসীরা আল্লাহু আকবর স্লোগান দিয়ে হামলা চালায় বলে খবর প্রকাশ নিয়েও চলছে নানা সমালোচনা। অপরাধীর ধর্ম হলো সে তার পরিচয় লুকাতে চায়। কিন্ত এখানে সন্ত্রাসীরা পাসপোর্ট পকেট এ নিয়ে হামলা করেছে । শুধু তাই নয় তারা ‘আল্লাহু আকবর’ বলে স্লোগানও দিচ্ছিলো !

মূলত সিরিয়াতে সরাসরি আক্রমনের জন্য এবং বিশ্বকে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে দিতে একটা অজুহাত দরকার ছিল।  সেই অজুহাত তৈরীর জন্য বরাবরের মত প্রান দিল কিছু নিরীহ মানুষ। বিশ্বমোড়ল আমেরিকার নেতৃত্বেই হচ্ছে এই সব কর্মকাণ্ড। কেননা বর্তমানে আমেরিকার প্রধান মাথা ব্যাথার কারণ হলো ইসলামের পুণর্জাগরণ। ধর্মের গণ্ডি পেড়িয়ে ইসলাম যাতে কখনো রাষ্ট্রব্যবস্থায় আসতে না পারে, মুসলমানরা যাতে তাদের ঐতিহাসিক স্বর্ণযুগ তথা খিলাফত ব্যবস্থা পুণরায় প্রতিষ্ঠিত করতে না পারে সেজন্য আমেরিকাসহ ইসরায়েল ও সমগ্র পশ্চিমাদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।

এর আগে যখন সমাজতন্ত্রকে বিশ্ব থেকে আমেরিকা নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল তখনও তারা একইভাবে নাটক সাজায় এবং সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর উপর হামলে পরে।  ১৯৬২ সালে সিআইএ একটি পরিকল্পনা তৈরী করে যার নাম ছিল Operation Northwoods। পরিকল্পনাটির উদ্দেশ্য ছিল আমেরিকার ভেতরে একটি মেজর টেরোরিস্ট এ্যাটাক চালানো যাতে তারা কিউবার ওপর এর দায় চাপিয়ে সেখানে হামলা করতে পারে। তারা ভেবেছিল এতে অনেক সিভিলিয়ান নিহত হবার ফলস্বরুপ কিউবায় আগ্রাসনের পক্ষে জনসমর্থন পাওয়া সহজ হবে। এটা চূড়ান্তভাবে সমর্থিতও হয়েছিল Joint Chief’s of Staff এবং Department of Defence দ্বারা। কিন্ত তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি এই প্রস্তাব বাতিল করে দেওয়ায় পরিকল্পনাটি শেষপর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। তবে এটাই একমাত্র পরিকল্পনা যা বাস্তবায়িত হয়নি এবং জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়েছিল।

 

 

NO COMMENTS

Leave a Reply