পরীক্ষার ফি না দেওয়ায় বাবাকে গলা কেটে হত্যা

পরীক্ষার ফি না দেওয়ায় বাবাকে গলা কেটে হত্যা


0 142

বাংলা গ্যাজেট, ৭ ফেব্রুয়ারি: বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় বিএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের টাকা না পেয়ে  বাবাকে গলা কেটে হত্যা করেছে ছেলে আবু হাসান। দীর্ঘ আট মাস আগে ঘটা এই ঘটনার রহস্য উদঘাটন হয়েছে আজ রোববার।

গত বছরের ১০ জুন সন্ধ্যায় দুপচাঁচিয়া উপজেলার আটগ্রাম শাহ পাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে হবিবর রহমান ধলুর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

আজ দুপুরে বগুড়ার সরকারি আযিযুল হক কলেজের ছাত্র হাসান তার বাবাকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

বগুড়া জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান জানান, হাসান তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন, তার বাবা হবিবর রহমান ধলু ছিলেন হাড়কিপটে প্রকৃতির মানুষ। সামর্থ্য থ্কা সত্বেও সংসারে টাকা পয়সা খরচ করতেন না। এমনকি তাকেও লেখাপড়ার কোনো খরচ দিতেন না।হাসান নিজ উদ্যোগে টাকা সংগ্রহ করে এইচএসসি পাস করে বগুড়া সরকারি আযিযুল হক কলেজে বিএসসিতে ভর্তি হন।

হাসানের বরাত দিয়ে এএসপি জানান, গত বছরের ১০ জুন বিএসসি প্রথম বর্ষ পরীক্ষার ফরম পূরণের শেষ তারিখ ছিল। ওই দিন সকাল ৭টায় আবু হাসান ফরম পূরণের জন্য বাবার কাছে দুই হাজার ৫শ’ টাকা চান। কিন্তু বাবা হবিবর রহমান মাত্র ৫০ টাকা দিয়ে কৃষি কাজের জন্য মাঠে চলে যান। পরে আবু হাসান তার বাবার ড্রয়ার খুলে দুই হাজার ৫শ’ টাকা নিয়ে ফরম পূরণ করতে চলে যান। সকাল ৯টার দিকে হবিবর রহমান টাকা না পেয়ে স্ত্রী ও বেড়াতে আসা বিবাহিতা মেয়েকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। পরে মেয়েকে নিয়ে স্ত্রী পাশের গ্রামে তার বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন।

তিনি জানান, দুপুর ২টার দিকে আবু হাসান বাড়ি ফিরে কাউকে না পেয়ে নানা বাড়ি গিয়ে মা-বোনের কাছে ঘটনা শোনেন। এরপর সবার অগোচরে হাসান মই দিয়ে বাবার শয়নকক্ষে প্রবেশ করে। এ সময় তার বাবা ঘুমাচ্ছিলেন। ঘরে প্রবেশ করার পর একটি হাসুয়া কাছে পেয়ে তিনি বাবার ঘাড়ে কোপ দিয়ে পালিয়ে যান। দীর্ঘ সময় হবিবর রহমানের কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেয়। সন্ধ্যায় ঘরের দরজা ভেঙে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এএসপি গাজিউর রহমান জানান, ঘরে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় এবং ওপরের ফাঁকা অংশে মাকড়াসার জাল থাকায় পুলিশ এবং নিহতের পরিবার ধারণা করছিল হবিবর রহমান স্ত্রী-সন্তানদের ওপর অভিমান করে আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় থানায় ইউডি মামলা দায়ের করা হয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়।

তিনি আরও জানান, তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে হত্যাকাণ্ড উল্লেখ থাকায় পুলিশ রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে। এ ব্যাপারে তার নেতৃত্বে পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান একটি টিম গঠন করেন। এরপর পুলিশ গত শনিবার নিহতের স্ত্রী, বিবাহিতা দুই মেয়ে এবং একমাত্র ছেলে হাসানকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। এক পর্যায়ে হাসান তার বাবাকে হত্যার কারণ ও বিস্তারিত বর্ণনা দেন।

রোববার দুপুরে তাকে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলেও জানান এএসপি গাজিউর রহমান।

NO COMMENTS

Leave a Reply