‘দ্য ট্রু ফুরকান’ ও ইহুদি-খ্রিস্টানদের কুটচাল

‘দ্য ট্রু ফুরকান’ ও ইহুদি-খ্রিস্টানদের কুটচাল


1 850

১৯৯৯ সালের এপ্রিলে আমেরিকাতে ‘দ্য ট্রু ফুরকান’ বা সত্য ফুরকান শীর্ষক একটি বিভ্রান্তিকর গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। ওমেগা (Omega) এবং ওয়াইন প্রেস নামক দুটি কোম্পানী সত্য ফুরকান নামক এই জাল কুরআনটির প্রকাশনার সাথে জড়িত। ‘প্রজেক্ট ওমেগা ২০০১’ এর নির্বাহী কমিটির একজন সদস্য আল-মাহদি এটি প্রকাশ করেন। গ্রন্থটির সাব-টাইটেল দেওয়া হয়েছে ‘একুশ শতকের কুরআন’। আল্লাহ তায়ালা প্রদত্ত কোরআনকে চ্যালেন্জ জানিয়ে এই গ্রন্থটিকে প্রকাশ করা হয়।

গ্রন্থটির রচয়িতা হিসেবে দুই জনের নাম প্রচলিত। এরা হলেন আল-মাহদি এবং আল-শাফী। গ্রন্থটিকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন আনিস শরশ। তিনি ফিলিস্তিনের একজন নিবেদিতপ্রাণ খৃস্ট ধর্ম প্রচারক।

যদিও আরবি মূল কোরআনের অনুকরণে ‘দ্য ট্রু ফুরকান’ (আল-ফুরকান আল-হক্ব) গ্রন্হটি রচনা করা হয়েছে, কিন্তু এর মধ্যে খ্রিস্টান ধর্মের নানান তথ্যের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে।

আল-মাহদি তাদের এই গ্রন্থটি সম্পর্কে বলেন, “সপ্তম শতকের কোরান লিখতে নবী মুহম্মদের (সা.) যেখানে ২৩ বছর সময় লেগেছিল; সেখানে এই ‘দ্য ট্রু ফুরকান’ লিখতে সময় লেগেছে মাত্র ৭ বছর।”

‘দ্য ট্রু ফুরকান’এর পক্ষে আরো বলা হয়- এর ভাষা, ছন্দ এবং ব্যাকরণগত শুদ্ধতা পবিত্র কোরানের চেয়েও বিশুদ্ধ ও সুন্দর! তাদের এই দাবি যে কতটা ভ্রান্ত তার জন্য একটি উদাহরণই যথেষ্ট হবে। যেমন: তারা তাদের গ্রন্থের সত্যতা প্রকাশ করতে ‘ হাওয়া হাজহাল ফুরকান-উল-হ্ক্ব’ বাক্যটি ব্যবহার করেছেন। বাক্যটিতে ব্যবহৃত ‘হাওয়া’ এবং ‘হাজহা’ শব্দ দুটি আরবি ভাষী লোকেদের একটি কমন ভাষা। অন্যদিকে পবিত্র কোরানে মহান আল্লাহ পাক কোরানের সত্যতা ঘোষণা দেন এভাবে, ‘আলিফ লা-মীম। জালিকাল কিতাবু লা রাইবা ফিহ্ হুদাল্লিল মুত্তাকিন।” পবিত্র কোরানে আল্লাহ ‘হাজহা’ (this is) শব্দটি ব্যবহার না করে ‘জালিকা’ (that is) শব্দটি ব্যবহার করেছেন। অর্থাৎ আল্লাহ মানবজাতিকে বলছেন, “এটি হল সেই কিতাব” বা “That is the Quran”. ‘that’ তথা ‘জালিকা’ শব্দটি ব্যবহার করে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করছেনে, কোরান শুধু একটি গ্রন্থ, এটি এমন একটি গ্রন্থ যা সর্বেসর্বা এবং সুরক্ষিত। অথচ সত্য ফোরকানের লেখকেরা যে শব্দ ব্যবহার করেছেন তাতে তার অর্থ দাড়ায় “This is the True Furqan”. ‘this’ শব্দটি ব্যহারের ফলে তাদের রচিত বাক্যটির দ্বারা বুঝা যায়, এমন গ্রন্থ এটাই একটি নয়।

introমুসলমানদেরকে খ্রিস্ট ধর্মের প্রতি আসক্ত করতে এবং ইসলামি আকিদা থেকে মুসলমানদেরকে বের করে আনতেই বিভ্রান্তিকর এই বইটি প্রকাশ করা হয়েছে।

২০০৪ সালের ৬ ডিসেম্বরের সংখ্যাটিতে মিশরের সংবাদপত্র আল-উসবু জানায়, খ্রিস্টান মিশনারীরা আমেরিকান তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিও বুশ এবং ইসরাইল প্রশাসনের প্রত্যক্ষ আদেশে ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র স্বরূপ এই ‘দ্য ট্রু ফুরকান’এর সৃষ্টি করেন।

গ্রন্থটি ১৯৯৯ সালে যখন প্রকাশিত হয় তখন তাতে কোন গোপনীয়তা অবলম্বন করা হয়নি। বরং একবারে প্রকাশ্যে তা প্রকাশ করা হয়।

বইটির নাম হিসেবে আল-ফুরকান আল-হক্ব (ইংরেজিতে দ্য ট্রু ফুরকান) শব্দগুলো খুব সচেতনতার সাথে ব্যবহার করা হয়েছে দুর্বল চিত্ত মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত করার জন্য। যেসকল মুসলমানদের মূল আরবি কোরান সম্পর্কে জ্ঞান নেই তাদেরকে বিপথগামী করার জন্য।

২১ শতকের কোরআন নামে অভিহিত ৩৬৬ পৃষ্ঠার এই বইটিতে রয়েছে ৭৭টি সূরা। সূরা আল ফাতিহা ,আল জান ,আল ইঞ্জিল নামের তিনটি সূরা রয়েছে। এই তিনটি সূরায় বিসমিল্লাহ্ ব্যবহার করা হয়নি।তথাকথিত এই কোরআনে ইসলামী অনেক বিশ্বাসকে আঘাত করা আয়াত আছে, বিভিন্ন আয়াতে শরীয়াহ বিরোধী অসংখ্য কথা বলা হয়েছে। যেমন: আল্লাহ পাক শর্তসাপেক্ষে একজন পুরুষকে চার বিয়ের অনুমতি দিয়েছেন। কিন্তু এই গ্রন্থটিতে বলা হয়েছে, কোনভাবেই স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করা যাবে না। এ ছাড়া, গ্রন্থটিতে   ব্যভিচারকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। ইসলামের অন্যতম প্রধান বিষয় জিহাদকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া বিবাহ বিচ্ছেদ নিয়ে ভ্রান্ত তথ্য দেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন শরীয়াহ কে অস্বীকার ও ভুল ব্যাখা দেয়া হয়েছে । এমনকি মহান আল্লাহ্ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালাকে অবমাননা করা হয়েছে!

সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হল বিভিন্ন মুসলিম দেশের স্কুলগুলোতে এই বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। শিশুদের মধ্যে এর প্রচার ঘটিয়ে ইসলাম সম্পর্কে ভবিষ্যত প্রজন্মকে নেতিবাচক করে গড়ে তোলার লক্ষেই এই সকল কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।

অবাক করা বিষয় হল এই জঘন্য ইসলাম বিরোধী গ্রন্থটি কোরআনের নামে কুয়েতে বিতরণ করা হচ্ছে ! শুধু তাই নয়, সৌদি আরবেও এই বইটি নিষিদ্ধ নয়। এসব দেশের রাষ্ট্রপ্রধানেরা তাদের প্রভু আমেরিকাকে খুশি করতে প্রয়োজনে ইসলাম অবমাননাকারী এরূপ বই প্রসারেও পিছপা হয় না।

কিন্তু আল্লাহ্ তাঁর কিতাব রক্ষা করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা তিনি পূরণ করবেই। শুধু তাই নয় মহান আল্লাহ তার পবিত্র কোরআনকে পৃথিবীর বুকে সুপ্রতিষ্ঠিতও করবেন। কেননা তিনি বলেছেন, “এরা আল্লাহর নূরকে মুখের ফুৎকারে নিভিয়ে দিতে চায়, অথচ আল্লাহর ফায়সালা হল তিনি তার নূরকে প্রজ্বলিত করবেন|” (সূরা ছফ:৮)

 

1 COMMENT

Leave a Reply