কাদের আঙুলের ঈশারায় দেশ চলে, প্রশ্ন খালেদার

কাদের আঙুলের ঈশারায় দেশ চলে, প্রশ্ন খালেদার

বাংলা গ্যাজেট ডেস্ক: বর্তমান সরকার সত্যিকার অর্থে নিজেরা দেশ শাসন করছে নাকি এর পেছনে অন্য কোনো শক্তি কাজ করছে, এ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার অন্যায় ও অবৈধভাবে ক্ষমতায় আছে। কিন্তু তারপরেও বলতে হয়, অবৈধভাবে ক্ষমতায় থেকেও সত্যিকার অর্থে তারা নিজেরা কি দেশ শাসন করছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো শক্তি কাজ করছে সেটাও দেশের মানুষকে আজকে চিন্তা করতে হবে। কাদের আঙুলের ঈশারায় দেশ চলে তা আজ দেশবাসীকে স্পষ্ট হতে হবে। কারণ, আজকে দেশের সার্বভৌমত্ব কোথায় পৌঁছেছে সেটা বলা মুশকিল। এমতাবস্থায় বর্তমান অবৈধ সরকার নিয়ে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।’

পবিত্র মাহে রমজানের নবম দিন বুধবার (১৫ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর ইস্কাটনের লেডিস ক্লাব মিলনায়তনে ২০ দলীয় জোট শরিক জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেগম জিয়া এ সব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির (জাফর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. টিআইএম ফজলে রাব্বি চৌধুরী।

জনগণের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময় এসে গেছে উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিরাপত্তাহীন ও গণতন্ত্রহীন অবস্থা থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে। দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার ও সুশাসন ফিরিয়ে আনা আজকে মানুষের সবচেয়ে বড় কাজ।বাংলাদেশে আজকে কোনো মানুষ নিরাপদ নয়। দেশে গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠিত হলেই মানুষের নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব।’

সরকারকে ‘অন্যায়ভাবে ক্ষমতা দখলকারী’ আখ্যা দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘এই সরকার জনগণকে জিম্মি করে ক্ষমতায় থাকতে চায়। তারা নিজেরা প্রতিনিয়ত মানুষ হত্যা করছে, আওয়ামী লীগের লোকজনও মানুষ হত্যা করছে। আর এর দায় চাপাচ্ছে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ওপর। বিএনপি সহিংসতা ও মানুষ হত্যায় বিশ্বাস করে না।’

তিনি বলেন, ‘জঙ্গি দমনে সাঁড়াশি অভিযানের নামে বিএনপি, অন্য রাজনৈতিক দল ও সাধারণ নিরীহ জনগণকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। সারা দেশে ইতোমধ্যে ১২ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এতো গ্রেপ্তার করা হয়েছে যে, কারাগারগুলোতে এখন মানুষের কোনো ঠাঁই হচ্ছে না। শুনেছি, তাদেরকে বাথরুমে পর্যন্ত থাকতে হচ্ছে। এই কি দেশ চালানোর নমুনা?’

ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘একদিকে তারা ডাকাতি করে ব্যাংকগুলো খালি করে দিচ্ছে, অন্যদিকে মানুষ হত্যা করে দেশ শেষ করে ফেলছে। দেশের মানুষ তাহলে আজ যাবে কোথায়? যে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম, সেই স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র আজ অর্থহীন হয়ে পড়েছে। আজকে দেশের সার্বভৌমত্ব আছে কি না, সেটাও বলা মুশকিল।’

দেশে গণতন্ত্র নেই উল্লেখ করে খালেদা বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা সংগ্রাম করছি। স্বাধীন-সার্বভৌম দেশে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও সুশাসনসহ মানুষের যাতে সকল অধিকার থাকে সেজন্য আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি। কিন্তু দেশে আজ গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও সুশাসন অনুপস্থিত। এভাবে দেশ চলতে পারে না।’

খালেদা জিয়া ইফতারের পূর্বে টেবিল ঘুরে ঘুরে আগত অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজ-খবর নেন। এর আগে, সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে ইফতার মাহফিলে এসে পৌঁছান তিনি।

মূল মঞ্চে খালেদা জিয়ার সঙ্গে একই টেবিলে বসে ইফতার করেন- জাতীয় পার্টির (জাফর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. টিআইএম ফজলে রাব্বি চৌধুরী, মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএমএম আলম, আহসান হাবিব লিংকন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের (বিএমএল) সভাপতি এএইচএম কামরুজ্জামান খান, এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান পেশোয়ারী, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম, পিপলস লীগের সভাপতি গরিবে নেওয়াজ, ডেমোক্রেটিক লীগের (ডিএল) সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি ও সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহমেদ প্রমুখ।

ইফতারে বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল্লাহ আল নোমান, অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার ও আতাউর রহমান ঢালী প্রমুখ।

ইফতার মাহফিলে ২০ দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পুত্র মাওলানা শামীম সাঈদী, কেন্দ্রীয় মজলিসে সূরার সদস্য অ্যাডভোকেট মো. মশিউল আলম, ঢাকা মহানগর কর্মপরিষদের সদস্য ড. অ্যাডভোকেট মো. হেলাল উদ্দিন, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান, এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, লেবার পার্টির মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদী, বিএমএল’র মহাসচিব অ্যাডভোকেট শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, এনপিপির মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, এনডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য মঞ্জুর হোসেন ঈসা, যুগ্ম মহাসচিব ফরিদ উদ্দিন, ডিএল যুগ্ম সম্পাদক খোকন চন্দ্র দাস প্রমুখ।

এতে আরো উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক ভিসি ড. এমাজউদ্দীন আহমদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. জসীম উদ্দিন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. মো. আব্দুল কাদের, ঢাবির শিক্ষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এমএম বাহাউদ্দিন, সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের  ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জাকির হোসেন প্রমুখ।

ইফতারে জাতীয় পার্টির (জাফর) নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য নওয়াব আলী আব্বাস খান, জাফরুল্লাহ খান চৌধুরী, খালেকুজ্জামান চৌধুরী, আনোয়ারা বেগম, অ্যাডভোকেট মাওলানা রুহুল আমিন, অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান, সেলিম মাস্টার, রফিকুল হক হাফিজ, ভাইস চেয়ারম্যান শরীফ আহমেদ ও ড. নুরুল আজগার শামীম প্রমুখ।

NO COMMENTS

Leave a Reply