আত্মশুদ্ধির অপর নাম সিয়াম সাধনা

আত্মশুদ্ধির অপর নাম সিয়াম সাধনা


0 304

সুবেহ সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার ও যৌনকর্ম থেকে (একটানা) বিরত থাকার মাধ্যমে মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের নাম হল সিয়াম সাধনা।রোজা পালন হলো আত্মশুদ্ধির বলিষ্ঠ হাতিয়ার। রোজা পালনের মাধ্যমে মাসব্যাপী সিয়াম সাধনায় রত থেকে রোজাদার তাঁর পাশবিক প্রবৃত্তিকে সংযত করে আত্মিক ও বিবেককে বিকশিত করার মধ্যেই রোজার সফলতা নিহিত। খারাপ চিন্তা, লোভ লালসা, কুপ্রবৃত্তি দমন ও ত্যাগ করে আত্মশুদ্ধির মধ্যে রোজার মাহাত্ম নিহিত।

কুরআন মজিদে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এরশাদ করেছেন : “হে ইমানদারগণ। তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের প্রতি ফরজ করা হয়েছিল। আশা করা যায় যে তোমরা মুত্তাকি হতে পারবে।”

এই সিয়াম সাধনা করতে হয় পবিত্র রমজান মাসে। এই মাসটি অন্য সকল মাস অপেক্ষা উত্তম। এই মাসে কুরআন নাজিল হয়েছে, এই মাসেই লাইলাতুল ক্বদর। এই মাসে ইসলামের প্রথম জিহাদ বদর যুদ্ধে মুসলমানরা বিজয়ী হয়েছে আর এই মাসে মক্কা বিজয় হয়েছে।

শুধু তাই নয় রমজান মাসে বেহেস্তের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং দোজখের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। রমজান মাসে শয়তানকে শিকলে আবদ্ধ করা হয়। এ ছাড়া রমজান মাসে রয়েছে নফল ইবাদতের ফরজ ইবাদতের মর্যাদা আর ফরজ ইবাদতে সত্তরগুণ অধিক মর্যাদা।

রমজান মাসের প্রথমভাগের দশ দিন রহমতের। ইবাদাত বন্দেগী আর বিশেষ আমলের মাধ্যমে আল্লাহর কাছ থেকে রহমত প্রাপ্তির অফুরন্ত সুযোগ এই দশ দিন। ২য় দশ দিন জানা অজানা গোনাহ থেকে ক্ষমা তথা মাগফেরাতের এবং ৩য় দশ দিন জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি লাভের জন্য।

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র রমজান সম্পর্কে শুভ সংবাদ দিয়েছেন, “রোজাদার যে কোনো শ্রেণীরই   অন্তর্ভুক্ত হোক না কেন সে আল্লাহর রহমত বরকত ও মাগফিরাত হতে কোনোক্রমেই বঞ্চিত হবে না। রোজা আমারই জন্য এবং আমি এর প্রতিফল প্রদান করবো।”

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূল (সা.) বলেছেন, “যারা রমজানের চাঁদের প্রথম তারিখ থেকে শেষ দিন পর্যন্ত রোজা রাখে তারা সেই দিনের মতোই নিস্পাপ হয়ে যাবে, যেদিন তাদের মাতা তাদেরকে নিষ্পাপ রূপে জন্ম দিয়েছিল।” (সহিহ মুসলিম)

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূল (সা.) বলেছেন এ মাসের প্রত্যেক রাত্রে একজন ঘোষণাকারী এই বলে আহ্বান করতে থাকে যে, হে কল্যাণের অনুসন্ধানকারী তুমি আরো অগ্রসর হও। হে অসৎ কাজের পথিক তোমার অন্যায় পথ চলা বন্ধ কর। তুমি কি জাননা? এ মাসের প্রতি রাতে আল্লাহ তাআলা কত লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন? (তিরমিজি)।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি লাভের আশায় একদিন রোজা রাখবে আল্লাহ তায়ালা তাকে একটি কাক উড়ার বয়স থেকে বড় হয়ে মৃত্যুবরণ করা পর্যন্ত উড়তে থাকলে যতটুকু দূরত্বে পৌঁছবে ঠিক ততটুকু জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে দিবেন (মেশকাত, মুসনাদে আহমদ)।

NO COMMENTS

Leave a Reply